১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০২

পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরি দেওয়া হবে: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত  © টিডিসি ছবি

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি চাকরি দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ বিসিএস, পুলিশ নিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ বিসিএসের পাশাপাশি পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।

এ সময় চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার বিষয়েও কথাবার্তা চলছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চীনের বুলেট ট্রেনগুলো ঘণ্টায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার বেগে চলে। বাংলাদেশের জন্য গতি কিছুটা কম হলেও চলবে।

দেশের বিমানবন্দর প্রসঙ্গে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ময়মনসিংহ ছাড়া দেশের সাত বিভাগে বিমানবন্দর রয়েছে। বর্তমানে দেশে আটটি বিমানবন্দর চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সামনে দেশের বহরে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশে নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

গণঅভ্যুত্থানে পালানো সরকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পালানো সরকার আবার ফিরে এসেছে—সারা পৃথিবীতেই এমন কোনো নজির নেই। কোনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা সবাই একসঙ্গে পালিয়েছে—এমন নজিরও নেই। এটিই প্রথম নজির।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে চিন্তা করছেন, এগুলো দুরাশা। বরং তাদের নিজেদের শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টরা যদি আর দু-তিন বছর থাকতো, তবে বাংলাদেশ সিকিমের মতো পরাধীন হয়ে যেত। এ থেকে যদি আমরা কোনো শিক্ষা না নিই, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ। ফ্যাসিস্টের সময় দেশের সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ইচ্ছামতো নির্দেশনা দিয়ে কাজ করানো হতো। যে কারণে প্রায় ২০ বছর দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে দেশ আজ পিছিয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং ২০২৪ সালে আমরা সার্বভৌমত্ব পেয়েছি। আর এই পাওয়ার পেছনে যারা জীবন দিয়েছে, তাদের আমাদের স্মরণ রাখতে হবে এবং তাদের চেতনাকে ধরে রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

শেরপুরের পর্যটন উন্নয়নে ঝিনাইগাতীতে একটি মোটেল নির্মাণ এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে বাঁধ নির্মাণসহ জেলার উন্নয়নে নানা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ প্রমুখ।

এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে পৌঁছালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।