১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৭

প্রস্তুত হচ্ছে আইবাস প্লাস প্লাস, জারি হবে ৭টি পৃথক এসআরও

নবম জাতীয় পে-স্কেল  © ফাইল ছবি

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়; পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই এসব কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতিমধ্যে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

এসব আদেশে বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ-এ সাত ক্ষেত্রের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে কার্যকরের বিষয় থাকবে।

এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাসে। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোর প্রয়োগে যেসব কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাস-এ তথ্য হালনাগাদ এবং বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।’

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

নতুন পে স্কেলের সরাসরি সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী। এটি বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে নতুন বেতন কাঠামো চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে।

এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে বর্ধিত বেতনের আরও ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত করা হবে। এভাবে তিন ধাপে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাবে।

এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।