১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯

১০ টাকা কেজিতে দেশের যেকোনো প্রান্তে পণ্য পাঠাবে ডাক বিভাগ

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ  © টিডিসি সম্পাদিত

অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কুরিয়ার সেবার বাড়তি খরচ বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে দ্রুত পার্সেল পৌঁছে দিতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে চালু হওয়া সেবাটিতে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টের মাধ্যমে একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে। শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ভারী সামগ্রীও এ সেবার মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

স্পিডপোস্টে জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

এ সেবায় পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর অথবা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। ডাক বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পণ্য প্যাকেটজাত করে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। নির্ধারিত মাশুল পরিশোধের পর গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ একটি রসিদ দেওয়া হবে।

পার্সেল কোথায় রয়েছে, তা জানতে ডাক বিভাগের অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সঙ্গে বুকিংয়ের আগে অনলাইনে মাশুলের হিসাবও জানা যাবে।

ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি, ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘরে পার্সেল ডেলিভারি করা হচ্ছে। দ্রুতই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি ইস্যু করা যাবে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘স্পিডপোস্ট বেশ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। এই সার্ভিসে গ্রাহক নিয়মিত শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেল থেকে শুরু করে নানা রকম পণ্য পাঠাচ্ছেন। আমরা শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে পরীক্ষা করেছি। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পণ্য আনা–নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক বা দূরবর্তী অন্য সব জেলা ও উপজেলায় আপাতত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগলেও আমরা সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

পার্সেল বুকিং প্রক্রিয়া
-বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পার্সেল পাঠানো অত্যন্ত সহজ।
-পণ্য পাঠানোর জন্য গ্রাহক নিকটস্থ ডাকঘরে যান।
-ডাকঘরের নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটির নিরাপদ প্যাকেজিং সম্পন্ন করুন।
-পার্সেলের ওপর প্রাপক ও গন্তব্যের সঠিক ঠিকানা পরিষ্কারভাবে লিখুন।
-নির্ধারিত মাশুল দিয়ে বুকিং সম্পন্ন করুন এবং ট্র্যাকিং নম্বর–সংবলিত রসিদ বুঝে নিন।
-বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পার্সেল পৌঁছে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।