‘অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে রাজি নই’— রুমিন ফারহানা ইস্যুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের ইস্যুতে বলেছেন, ‘আমি কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে রাজি নই।’
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার করা আলোচনার সময় এ কথা বলেন মন্ত্রী।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘র্যাবকে বিলুপ্ত করবার ব্যাপারে শুধু বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোই যে কেবল ঐক্যমতে এসেছিল তা নয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত এই সংস্থাটি বাতিলের জন্য প্রশ্ন তুলেছিল। আমার বক্তব্য হচ্ছে র্যাবের পরিবর্তে নতুন যে সংস্থা আমরা গঠন করতে যাচ্ছি সেটি যেন কেবল নাম পরিবর্তনে সকল কিছু পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার মতন ঘটনা না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নানাভাবে মানুষকে হেনস্তা হতে দেখেছি, মানুষকে নির্যাতিত হতে দেখেছি, ভীত হতে দেখেছি; ভবিষ্যতে আমরা এরকম আর কোনো সংস্থার আচরণ চাই না। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব অন্তত এই সংসদে যারা উপস্থিত আছেন, যে দলগুলো উপস্থিত আছে, তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। বাহিনীগুলোকে— সেটা পুলিশ বাহিনী হোক, র্যাব হোক কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী হোক তারা যাতে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে দলীয়করণমুক্ত হয়ে প্রভাবমুক্ত হয়ে যার যার মতো কাজ পরিচালনা করতে পারেন। সেই ব্যাপারটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবেন, সরকার দেখবেন।’
প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমিও কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে রাজি না। গতকাল অর্থমন্ত্রীর একটা বিল ছিল—১৮ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তি একটা আইন; তার সাথে সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য ছিল না, অন্যান্য বিষোদ্গার ছিল। সেজন্যই এ প্রশ্ন অবতারণা হয়েছে। জনমত যাচাই-বাছাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণের একটা প্রস্তাব সদস্য দিয়েছেন, কিন্তু বক্তব্যের মধ্যে সেটা আমি দেখি নাই এই বিলের উপরে কোনো বক্তব্য দিতে। আর পূর্বে পাশ হওয়া আইনের প্রেক্ষিতে যে আলোচনা আপনি দিয়েছেন সেটাই রাইট। এসআরবি পাশ হয়ে গেছে, এটা নিয়ে আর কোনো বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন নাই। এখন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনটার এই সংশোধনীটা আনতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মহান নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামকে (হিল ট্র্যাক্স) উদ্দেশ্য করে প্রধানত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন রেজ করেছিলেন। পরবর্তীতে এটা সারা বাংলাদেশব্যাপী আমরা এটার এখতিয়ার নিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং প্রয়োজনে যুদ্ধকালীন সময় তারা অংশগ্রহণ করবে এই উদ্দেশ্য ও কারণগুলো আছে। সেই কারণে আইনটা করা হয়েছিল; এটাকে আধুনিকায়নের জন্য এবং এই আইনের একটি সেকশন এমেন্ডমেন্ট করে একটা বাহিনী রেজ করা হয়েছিল, সেই অংশটা এখান থেকে বাদ দিতে হচ্ছে। না হলে সেই ব্যাটালিয়নের অস্তিত্বটা এপিবিএন-এ রয়ে যায়, সেজন্য আইনটা আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের বিরোধী দলীয় প্রধান, বিরোধী দলীয় বন্ধুরা যারা জনমত যাচাই এবং বাছাইয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারা সেটা আলোচনা করবেন না মর্মে জানিয়েছেন। সুতরাং তাদের কোনো আপত্তি নাই। আর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের পক্ষে যে দুইজন বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরও স্পেসিফিক কোনো বক্তব্য নাই। সুতরাং জনমত যাচাই বাছাইয়ের কোনো প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।