কী আছে সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির খসড়া প্রজ্ঞাপনে
সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০ গ্রেড) পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধি নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে; বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছেন। এর মধ্যেই ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনের খসড়ার একটি কপি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে জারি করা হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করবেন সিনিয়র সচিব।
খসড়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৫৯ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিল।
এই বিধিমালা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।’
খসড়া প্রজ্ঞাপনের তথ্য বলছে, এই বিধিমালার কোনো কিছুই শৃঙ্খলা-বাহিনী; পুলিশ-বাহিনী; বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি); আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ব্যাটালিয়ন আনসার; বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (কোস্ট গার্ড); র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা অন্য কোনো বাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
খসড়া প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ ও ১২ গ্রেডের কর্মচারীদের ভাইভায় ১০ নম্বরের পরিবর্তে ৫০ নম্বর করা হয়েছে, যা বিদ্যমান নম্বরের চেয়ে ৪০০ শতাংশ বেশি।
একই গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় ৯০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বর করা হয়েছে। এই গ্রেডে বিদ্যমান লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়, প্রস্তাবিত খসড়ায় তা ৩৫ শতাংশ করা করা হয়েছে।
বিদ্যমান বিধিমালায় ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের কর্মচারীদের ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর যথাক্রমে ১০ ও ৯০। খসড়া প্রজ্ঞাপনে এসব গ্রেডের ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর করা হয়েছে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০। এসব গ্রেডের বিদ্যমান লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ হলেও খসড়া প্রজ্ঞাপনে তা কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
বিদ্যমান বিধিমালায় ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর ১০ ও ৪০। প্রস্তুতকৃত খসড়া প্রজ্ঞাপনে বিধিমালায় এই চারটি গ্রেডে ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার জন্য যথাক্রমে ২৫ ও ২৫ করা হয়েছে।
খসড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবার পর তাহার জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকিলে, তাহাকে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে হইবে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলেই কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন এবং নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হইতে হইবে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম চলমান থাকিলে, উহা উক্ত বিধিমালা অনুযায়ী এমনভাবে নিষ্পত্তি হইবে যেন এই বিধিমালা প্রণীত হয় নাই।
এই বিধিমালা প্রয়োগ করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।’