বর্ষার আগেই পরিষ্কার হবে চট্টগ্রামের ১৬০০ কি.মি. ড্রেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের দুঃখ জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে সরকার। ইতোমধ্যে একটি খালের খনন কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এছাড়া আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরীর ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার ও খাল থেকে মাটি-আবর্জনা অপসারণের কাজ শেষ করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন— বর্তমান সরকার বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার করার কাজ চলছে। ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের এই কার্যক্রম আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই শেষ করা হবে। এছাড়া নগরীর আরও ৩২টি খাল হতে আবর্জনা ও মাটি অপসারণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে খাল রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে সংসদ নেতা জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে ওই প্রকল্প বহির্ভূত আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও আলাদা ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, ২টি কালভার্ট ও ৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়াও নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে নগরে ২টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৬টি খেলার মাঠ উন্নয়নের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।