০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪৩

আবারও বাড়ছে কমদামি সিগারেটের মূল্য

সিগারেটের দাম নির্ধারণ  © সংগৃহীত

কমদামি বা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নিম্নস্তরের সিগারেটের বিদ্যমান ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ মূল্যস্তর পরিবর্তন করে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিধিমালা-সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ঠেকানো এবং এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি কমানোই মূল্য পুনর্নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম ১০ শলাকার প্যাকেটে ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তখন নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়।

এদিকে একই বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে ছয় মাস বা ১৮০ দিনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হবে। সরকার আশা করছে, এতে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতি কমার সঙ্গে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতেও বৈঠকে আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সম্প্রসারণসংক্রান্ত একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর। স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে এতে সংশোধন আনা যাবে। সরকার মনে করছে, এই চুক্তি বাংলাদেশে হংকংয়ের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় হংকং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এর ফলে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন বা ৬ মাস পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হবে।

সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের সার্বিক বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে, যা জনজীবনের ভোগান্তি কমাবে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রেখে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করতে ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে একটি বিশেষ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তিটি দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে হংকং বর্তমানে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, যাদের বড় অংশই এ দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর এবং স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে চুক্তিটি সংশোধন করতে পারবে। এই চুক্তির ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে, যা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।