০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৩

সংসদীয় কমিটিতে গাজী নজরুল, জামায়াত আমিরের ‘না’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ফ্রি বুদ্ধি’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গাজী নজরুল ইসলাম এমপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ  © টিডিসি সম্পাদিত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটিতে সদস্য করা নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

গাজী নজরুল ইসলামকে বিরোধী দলের কোটায় নয়, সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবে একটি কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। অন্যদিকে, তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বিষয়টি স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় আসতে পারে।

তিনি বলেন, আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তার আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেননি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন— সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ আসে। এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দেওয়া কিংবা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিধি ও সংবিধান অনুযায়ী সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। এ সময় রসিকতার সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’

সংসদীয় কমিটি রাখা নিয়ে চিফ হুইপের ব্যাখ্যা

গাজী নজরুল ইসলামকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদে থাকা প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত একটি সংসদীয় কমিটিতে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এখন সংসদে আছেন। প্রত্যেককেই কোনো না কোনো কমিটিতে অন্তত একটা কমিটিতে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের নাম আগে তিনটি কমিটিতে ছিল। এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর তাকে অন্য কোনো কমিটিতে রাখার সুযোগ না থাকায় প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। উনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একজন সদস্য। যতক্ষণ পর্যন্ত উনার সদস্যপদ না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সংসদের সকল সদস্যকে অ্যাকোমোডেট করব। গাজী নজরুল ইসলামকে বিরোধী দলের কোটায় নয়, একজন সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবেই প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে।

বিরোধী দলের কোটা থেকে না হলে আপত্তি নেই জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে যদি বিরোধী দলের বরাদ্দকৃত কোটা থেকে কমিটিতে না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের কোটা থেকে যেহেতু উনাকে অ্যালোকেশন দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।

এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে কয়েকটি স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান চিফ হুইপ। এ কারণেই তাকে নতুন করে অন্য একটি কমিটিতে রাখার বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন ওঠে।