০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৮

রাজধানীতে অটোরিকশা বন্ধ না করার দাবি সংসদে

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও জাতীয় সংসদ  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। অটোরিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা, অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা এবং বৈধ ও পরিবেশবান্ধব চার্জিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন এবং নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়মও কমেছে। কিন্তু নম্বর প্লেট না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও তাদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরা যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু নম্বর প্লেট ছাড়া বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা প্রধান সড়কে চলাচল করায় কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংসদ সদস্য বলেন, অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি, দুর্বল ব্রেক ও আলো ব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব যান কম ভাড়া ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে।

‘মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া তাদের বাহন জব্দ, ডাম্পিং কিংবা পুলিশি হয়রানি করা ঠিক নয়’—বলেন রানু। তিনি অটোরিকশাগুলোকে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ভেতরের সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় চার্জ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, বিআরটিএর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

রানু বলেন, এটি এখন শুধু পরিবহন খাত নয়, এটি একটি বড় নগর অর্থনীতি। বাহন জব্দ কিংবা হয়রানি নয়, পরিকল্পিত ব্যবস্থার আওতায় আনাই এখন জরুরি। প্রতিদিন ঢাকায় প্রায় ৩০০টি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। এসব যান চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে চার্জিং স্টেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

রেহানা আক্তার রানুর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতিমালায় অটোরিকশার রুট নির্ধারণ, নিবন্ধন, চালকদের নিয়ন্ত্রণ, চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রধান প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিংয়ের কারণে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে। এতে কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে নীতিমালায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাটারিকে ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার ব্যবস্থা থাকবে। একটি নিবন্ধন নম্বরের অধীনে যাতে একাধিক যানবাহন চালানো না যায়, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।

অবৈধ চার্জিং স্টেশনে অভিযান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে চার্জিং স্টেশন পরিচালনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে অনুমোদিত অটোরিকশার নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্তকরণ, চালকদের নিবন্ধন এবং পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন, সড়ক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।