০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৬

নতুন পে স্কেলের উচ্চতর গ্রেডের কী হবে, যা ছিল সচিব কমিটির সুপারিশে

নবম জাতীয় পে স্কেল  © টিডিসি সম্পাদিত

পদোন্নতি না পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫। তবে সেই প্রস্তাব পুরোপুরি গ্রহণ করা হচ্ছে না। কমিশনের ৫ বছর পর প্রথম এবং আরও ৫ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুপারিশের পরিবর্তে ৮ ও ৬ বছরের সময়সীমা রাখার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন। এই সুবিধা পদোন্নতি হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটি হবে কেবল আর্থিক সুবিধা। এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পরও যদি তিনি পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে আরও ছয় বছর কাজ করেন, তাহলে সপ্তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হবেন। এখানেও এটি পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পান। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর পরবর্তী ছয় বছরে পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এ সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য। চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কোনো কর্মচারী এ সুবিধা নিয়ে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে বেতন পেতে পারেন না।

এ ছাড়া কোনো কর্মচারী আগের বেতনস্কেল অনুযায়ী একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল পেয়ে থাকলে নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে কোনো স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর এক বছর পর পরবর্তী উচ্চতর স্কেল পাওয়া কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় পড়েন না।

বিদ্যমান ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে সময়সীমা কমানোর সুপারিশ করেছিল জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া কোনো স্থায়ী কর্মচারী একই পদ ও গ্রেডে টানা পাঁচ বছর থাকলে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে ষষ্ঠ বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এরপর ওই উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পরও একই পদে আরও পাঁচ বছর পদোন্নতি ছাড়া কাজ করলে ষষ্ঠ বছরে আবার পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এটিও পদোন্নতি নয়, কেবল আর্থিক সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।

কমিশনের প্রতিবেদনে ব্লক পদ হিসেবে পরিচিত পদগুলোর কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর ধারাবাহিকতাও বিবেচনায় নিয়েছে সচিব কমিটি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ৫+৫ বছরের পরিবর্তে ৮+৬ বছরের কাঠামো সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে আট বছর পূর্ণ হলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে। এরপর আরও ছয় বছর একই বা সমতুল্য পদে থাকলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে। এই দুই দফা সুবিধা চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কোনো কর্মচারী এ সুবিধা নিয়ে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে বেতন পেতে পারবেন না।

একই পদে এই আর্থিক সুবিধা দুইবারের বেশি পাওয়া যাবে না। কোনো কর্মচারী আগের বেতনস্কেলগুলোতে একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা স্কেল পেয়ে থাকলে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী ওই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। সচিব কমিটির সুপারিশে পুরোনো ও নতুন ব্যবস্থার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বিধানও রাখা হয়েছে।

কোনো স্থায়ী কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে একই পদে একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, ওই সুবিধা পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর সপ্তম বছরে তিনি দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগের সময়ের কোনো বকেয়া তিনি পাবেন না। নতুন গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধাও অতীত সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?

যেসব পদে পদোন্নতির কোনো বিধান নেই এবং যেগুলো ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। সন্তোষজনক চাকরির শর্তে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে।

প্রথমবার আট বছর পূর্তিতে, দ্বিতীয়বার এর পরবর্তী ছয় বছর পূর্তিতে এবং তৃতীয়বার আরও আট বছর পূর্তিতে এই সুবিধা দেওয়া হবে। এটিও পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না। থাকবে শুধু আর্থিক সুবিধা হিসেবে।

কর্মচারী নেতারা জানান, আগের বেতনস্কেলে দীর্ঘদিন একই পদে থেকে কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও তারা বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, পদোন্নতির সুযোগ না থাকা কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় আরও কমানো হোক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন ১০ ও ৬ বছরের পরিবর্তে ৫ ও ৫ বছরের সুপারিশ করেছিল।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ অনুযায়ী নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা চাকরির ৮, ১০, ১২ ও ১৫ বছর পূর্তিতে চারটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-তে সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। এতে ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান করা হয়।

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের ব্লক পদে থাকা কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ নেই। তাই যৌক্তিক সময়ে তাদের উচ্চতর গ্রেড দিয়ে বেতন বাড়ানো উচিত। এটি না হলে তাদের বেতন বৃদ্ধির আর কোনো পথ থাকে না। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের পর উচ্চতর গ্রেড ও টাইম স্কেলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। প্রজ্ঞাপন জারির পরই নিয়ম ও পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট হবে।