প্রথমবারের মতো মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?
সরকারি চাকরিজীবীদের মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হচ্ছে। এতদিন মূলত পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট (সোমবার) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য ছিল। নতুন বেতনস্কেলে সব গ্রেডের কর্মচারীকে এ সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীই মোবাইল ভাতা পাবেন। সরকারি দাপ্তরিক কাজের বড় একটি অংশ এখন মোবাইল ও ইন্টারনেটনির্ভর। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের নিয়মিত দাপ্তরিক যোগাযোগের প্রয়োজন হয়। এ কারণে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় ভাতার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সচিব কমিটির সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ মোবাইল ভাতার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন হারের প্রস্তাব করেছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডে ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়। এই হারে ভাতা দিতে হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ দাঁড়াত প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: পে কমিশনের প্রস্তাব কাটছাঁট করে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন, যেমন ছিল সচিব কমিটির সুপারিশ
সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দাপ্তরিক যোগাযোগে মোবাইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সব স্তরের কর্মচারীর ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাই মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর প্রস্তাবটি যৌক্তিক। তবে পরিধি বাড়ানোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার কিছুটা যৌক্তিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছে কমিটি।
এদিকে সুপারিশ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় রাখার বিষয়টি বহাল থাকছে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর সুফল পাবেন।
শুধু মোবাইল ভাতাই নয়, নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে এ ভাতা দেওয়া হবে।