০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১

ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের ভাতা দেবে সরকার

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের ভাতা দেবে সরকার   © সংগৃহীত

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য সেবকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় তাদের মাসিক সম্মানী, ধর্মীয় উৎসবের জন্য উৎসব ভাতা এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতেই নতুন এ নীতিমালা করা হয়েছে।

নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদের উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

নীতিমালায় শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয়টি রাখা হয়নি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকার মনে করছে, এ ধরনের প্রশিক্ষণের ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতাও উন্নত হবে। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা মিলবে এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তাও কিছুটা কমবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য সেবক দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের এ অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি তাদের সামাজিক নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।