প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার না করতে পারে
প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, তবে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার যেন শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে এ মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি মো. ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, অভিভাবক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া এই সম্মাননা শুধু পুরস্কার নয়। এটি তাদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা এবং তাদের সম্ভাবনার প্রতীক।
তিনি বলেন, মেধা মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়। তবে সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে। তাই শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলে হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ প্রধান বলেন, আজকের অর্জন যেন আগামী দিনের সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হয়। সাময়িক কৌতূহল কিংবা কোনো ধরনের প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবায় জড়ানো যাবে না। সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ মাদক একটি মরণফাঁদ।
মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়েও সতর্ক করেন আইজিপি। তিনি বলেন, এসবের অতিরিক্ত আসক্তিও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের আসক্তির মতো ক্ষতিকর।
আইজিপি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।’ একই সঙ্গে দেশের নাগরিক হিসেবে আইন মেনে চলতে এবং অন্যদেরও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন কাজী মো. তানান হোসেন, সৈয়দা সাবিহা মুশাররাত মুমু, মো. আদনান জাওয়াদ ও মুস্তাইনা মঞ্জুর। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে মেধাবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ডিআইজি শম্পা ইয়াসমিন ও পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফারুকুজ্জামান।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সাফল্য ধরে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। জীবনে উন্নতি করতে হলে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যেতে হবে। সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮০১ জন এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২৭২ জন মেধাবৃত্তি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৪৫ জন এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির আওতায় এসেছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে মোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শনিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬০ জনের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে।