অগ্রিম হোটেল বুকিং ছাড়া কলকাতায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ
ভারতের কলকাতায় ভ্রমণের আগে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। বিশেষ করে চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাওয়া বাংলাদেশিদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কলকাতার বেশ কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সেখানে গিয়ে আবাসন–সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতেই অগ্রিম বুকিং ছাড়া কলকাতায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট ভোররাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিট, যা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট নামেও পরিচিত, সংলগ্ন ফ্লোরেন্স ম্যানশনের ‘শিখা ইন’ নামের আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে শিশুসহ নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ থাকা এসব হোটেল নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে আবার চালু করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসা বা অন্যান্য কাজে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাওয়া নাগরিকেরা আবাসন সমস্যায় পড়তে পারেন। এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে ভ্রমণের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উপহাইকমিশন।
উপহাইকমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, কলকাতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হোটেলটি বর্তমানে চালু আছে কি না, কক্ষের প্রাপ্যতা রয়েছে কি না এবং সেটির অবস্থান কোথায়—এসব তথ্যও আগেই জেনে নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীদের সফরসঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের বৈধতা আগেই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হবে, সেখান থেকে হোটেলটির দূরত্ব কত এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কি না, তাও আগেই যাচাই করতে বলেছে উপহাইকমিশন। বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছে বাসস্থানের সমস্যায় পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করাই ভালো। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।