সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম ওঠানামা করলে স্থানীয় বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমদানিকৃত তেলের মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি (ফর্মুলা) রয়েছে।
তিনি বলেন, এফওবি মূল্যের সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও পরিবহনকালীন অপচয় (ওয়েস্টেজ) যুক্ত করে চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ মানুষও আন্তর্জাতিক ইনডেক্স দেখে সহজেই এই হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন। এফওবি মূল্য বা এফওবি ভ্যালু হলো জাহাযে তুলে দেওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিক্রেতার যে খরচ সেটি। এরপর বাকি খরচ আমদানিকারক বা ক্রেতার।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকেরা টানা লোকসানে পড়লে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের লোকসানের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়।
বুধবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ভোক্তা স্বার্থ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার লিটার প্রতি ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।