এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল দিতে ব্যয় ১২ হাজার কোটি টাকা, যে কারণে আলাদা পরিপত্র
সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১ জুলাই থেকেই তাদের বেতন সমন্বয় করা হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একই গেজেটে তাদের বেতন কার্যকর হবে না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা পরিপত্র জারি করে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নতুন কাঠামোয় সমন্বয় করতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয়ও এর ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অংশ যাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা সমন্বয়ে।
সরকারি কর্মচারীরা সরকারের রাজস্ব খাত থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৩-এর অধীনে পরিচালিত হন। এজন্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির মাধ্যমে তাদের বেতন সরাসরি কার্যকর হয়। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পরিচালিত হন ‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’র অধীনে। প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর এই ভিন্নতার কারণে একই গেজেটে তাদের (শিক্ষক) অন্তর্ভুক্ত না করে পৃথক পরিপত্র জারি করে বেতন-ভাতা সমন্বয় করা হয় বলে এমনটি জানালেন কর্মকর্তারা।
আরেকটি দিক হলো— এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং সরকারি অনুদান বা এমপিও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের নিয়োগ হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এবং স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা দ্বারা তারা নিয়ন্ত্রিত হন। শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা সরকারিদের মতো পান না। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন-ভাতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের বেতন সমন্বয় করা হলেও ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো পার্থক্য রয়েছে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও বর্ধিত সুবিধা চাকরিজীবীরা ধাপে ধাপে পাবেন। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে বর্ধিত বেতনের ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত করা হবে।
এভাবে তিন ধাপে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে। এরপর দশম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই তুলনামূলক বেশি অর্থ যুক্ত হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে তাঁদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যোগ হবে।
এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে। এই গ্রেডের চাকরিজীবীরাও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা পাবেন। একই ধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি হওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।