পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কী সুবিধা পাবেন, বেতন কত হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় ১ জুলাই থেকেই তারাও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হিসেবে আর্থিক অনুদান দেয় সরকার। এটি এমপিও বা মান্থলি পে অর্ডার নামে পরিচিত। তারা পে স্কেলের মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতাও পান তারা। গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে তারাও পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি অবসর, ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ও উৎসব ভাতার সুবিধাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তাদের ভাতা সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো হবে না।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও বর্ধিত সুবিধা চাকরিজীবীরা ধাপে ধাপে পাবেন। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে বর্ধিত বেতনের ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত করা হবে।
আরও খবর: পে স্কেলে কোন ধাপের চাকরিজীবীদের বেতন কত বাড়বে, দেখে নিন
এভাবে তিন ধাপে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে। এরপর দশম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই তুলনামূলক বেশি অর্থ যুক্ত হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে তাঁদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যোগ হবে।
এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে। এই গ্রেডের চাকরিজীবীরাও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা পাবেন। একই ধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি হওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব করা হয়।
জানা গেছে, দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। সরকারি অংশের পাশাপাশি কিছু শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও বাড়তি টাকা পান। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া বাড়বে। তবে বিভিন্ন বিবেচনায় তাদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা আছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে তথ্য প্রকাশ করা হলেই তখন বিস্তারিত জানা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর একটি এমপিওভুক্ত কলেজের প্রভাষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এতদিন তারা নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা বেতন পেয়েছেন। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতেন। নতুন পে স্কেল ২০২৭-২৮ সালে পুরোপুরি বাস্তবায়ন যখন হবে, তখন তাদের মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা হবে বলে ধারণা করছেন। এটি এখন থেকেই ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে ভাতা কত বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তারা।