খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে যাবে ১০ হাজার কর্মী
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় ১০ হাজার কর্মীকে বিমান ভাড়াসহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সি আগের অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি এজেন্সির তালিকাভুক্ত।
বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ৪২৩টির মধ্যে আরও ৩১২টি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)ও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। ফলে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয়মুক্ত এসব কর্মীর প্রথম দল বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হবে।
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অনুমোদিত তালিকা থেকে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টার দিয়ে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে শ্রমবাজার খোলাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে বলা হয়েছে, যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিক্যাল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।