২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯

ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ দেখিয়ে আমদানী করা ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করল কাস্টমস

ব্যবহুত যন্ত্রাংশের নামে আনা গাড়ি জব্দ  © সংগৃহীত

মোংলা বন্দর দিয়ে করে গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে খণ্ড খণ্ড কেটে আনা বিলাসবহুল চারটি গাড়ি জব্দ করেছে এনবিআর। বৃহস্পতিবার (২৭) আগস্ট এনবিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিলাসবহুল গাড়ি গুলো জব্দ করার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকার ক্রাউন অটো মোবাইল নামক একটি প্রতিষ্ঠান গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে খণ্ড খণ্ড কেটে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটোর মতো চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানী। এরপর যন্ত্রাংশ হিসেবে গাড়িগুলো ছাড় করানোর চেষ্টা করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বিআরটিএ এবং কুয়েটের বিশেষজ্ঞ কারিগরি টিমের সহায়তায় সেসব গাড়ি জব্দ করে এনবিআর ও কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ।

মোংলা কাস্টমস জানিয়েছে, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে ওই গাড়ির চালানটি মোংলা বন্দরে আসে। যেটি সি-৬৯০৪ নম্বরের বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের এক প্রতিষ্ঠান আমদানি করে এবং খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ ওই পণ্যের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।

জব্দ হওয়া এই চালানে ১৪ ক্যাটালগের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং বা হেডলাইটের ঘোষণা দিয়ে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ধরে শুল্ক-কর বাবদ জমা দিতে চাওয়া হয় মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মতো। অথচ ভেতরে থাকা চারটি গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

কাস্টমস আইন (জিআরআই বিধি) অনুযায়ী, খণ্ডিত পণ্যে যদি মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বহাল থাকে, তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ পণ্য হিসেবেই গণ্য করতে হয়।

মোংলা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার এইচ এম শরিফুল হাসান জানান, ‘বর্তমানে গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ক্ষমতা, বয়স ও অবচয় বিবেচনা করে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণসহ আইনি পদক্ষেপ নেবে এনবিআর।’

জব্দ হওয়া চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স ৫৭০ (যার বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা), ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ ( যেটির বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা), ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০আই (যেটির বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা) এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট (যেটির বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা)।