২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৪

লোডশেডিং নয়, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হওয়ায় মারা গেছে ১৫ কোটি টাকার মাছ 

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাষ করায় মারা গেছে মাছ  © সংগৃহীত

যশোরের শার্শা উপজেলায় সোনামুখী বিল সংলগ্ন এ এফ মৎস্য খামারে আলোচিত ১৫ কোটি টাকার মাছের মারা যাওয়ার ঘটনায় মালিকপক্ষের দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল পেয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে বলে মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যে দাবি করেছিলেন, সরকারি অনুসন্ধানে তার কোনো সমর্থন মেলেনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসন জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড অনুযায়ী ২২ আগস্ট রাতে মাত্র ৪৪ মিনিট (রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত) বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। বাকি সময় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগেই খামারে মাছ মরতে শুরু করেছিল।

তদন্তে পুকুরে মাছের অতিরিক্ত চাপ, উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাবারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ এবং ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অতিরিক্ত বিস্তারই মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পানির পিএইচ (pH), অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় চরম অসামঞ্জস্য এবং মাছের ঘনত্বের তুলনায় পানিতে বাতাস সরবরাহের অপর্যাপ্ততাও এই বিপর্যয়ের পেছনে দায়ী।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, এত বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্পে বিকল্প জেনারেটর ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। তবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট মাছের মৃত্যুর মূল কারণ নয়, বরং অতিরিক্ত ঘনত্ব, অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ও খামারের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই মূলত এই বিপর্যয় ঘটেছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে খামারের যৌথ মালিক আলফাজুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার না করতে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল।