‘বিনামূল্যে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছে সরকার’
সরকারিভাবে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে বলা হয়, বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি তাদের দক্ষ করে তোলাও জরুরি। এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় পাঁচটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিদেশগামীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর কর্মীদের বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্ন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। কিন্তু বাজারটি চালু হয়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু করার ঘোষণা এসেছে। এবার শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিয়োগদাতা ও নিয়োগানুমতি আনা প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত ২৫ এজেন্সি থেকে পছন্দমতো এজেন্সি বাছাই করতে পারবে। মাত্র ৬ হাজার টাকা ফি দিয়ে যেকোনো এজেন্সি শ্রমিক পাঠাতে পারবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে ৩১২টি এজেন্সি ব্যবসা করতে পারবে। চেষ্টা চলছে অন্য এজেন্সিগুলোকেও এর আওতাভুক্ত করার।