২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৩

দক্ষ এআই ব্যবহারে সরকারি কাজে গতি বাড়বে, কমবে ভোগান্তি: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।   © টিডিসি ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার এবং সহজ হবে নাগরিক সেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। 

আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জিআইইউ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক ইউজ অব এআই টুলস অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস’ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকার আরও দক্ষ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নাগরিক সেবা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার দেখানো নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা। আমরা এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিকরা সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রশাসন হবে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব।

উপদেষ্টা বলেন, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এখন শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা -এর সঠিক ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ব্যৱহৃত হচ্ছে তথ্য বিশ্লেষণে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে, কাজের গতি বৃদ্ধিতে, সেবার মান উন্নয়নে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রযুক্তি কখনো মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের বিকল্প নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রজ্ঞাতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগের ওপর। এই জ্ঞান শ্রমসাধ্য সরকারি কাজ ও সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্মার্ট, দক্ষ ও জনকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা। স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিবে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।

মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে। তাই এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের মানুষকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কিছু প্রচলিত বা রুটিন কাজের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। এজন্য কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা ও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে হিউম্যান এআই সহযোগিতা বাড়ানোই হবে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন উপদেষ্টা।