জুলাই জাদুঘর মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণ রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হোক
প্রতি বছর ৫ আগস্ট জুলাই জাদুঘরের মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের সূচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের বীরদের স্মরণ করা এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘প্রতি বছর পাঁচ আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ যেনো জুলাই জাদুঘরের মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে যেনো দিনের সূচনা করেন-এই বিনীত প্রস্তাব করছি। এটাকে রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ করে ফেলা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে দলই বাংলাদেশে রাজনীতি করবে, তাদেরকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জুলাই যাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেই করতে হবে।
বিএনপি সরকারের বন্ধুদের মনে করিয়ে দিই তাদের শ্লোগানটা-‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। কার হাত থেকে টেক ব্যাক করার কথা বলা হয়েছে এখানে এটা বাংলাদেশের মানুষ বুঝতো। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ জানতো বাংলাদেশ এর আগে কখনোই এতোটা পরাধীন হয় নাই। দেশের মানুষ এর আগে কখনোই কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা বলতে শোনে নাই- ‘আমি অমুক দেশের সরকারকে বলে এসেছি হাসিনা সরকারকে যেনো আবারও ক্ষমতায় রাখে’। সো মানুষ বুঝতো দেশের চাবি আসলে কার হাতে ছিলো।’
ফারুকী বলেন, ‘যে কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের দুই তারিখে ‘দেশ স্বাধীন’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাই যে বীরেরা আমাদের সার্বভৌমত্বে ফিরিয়ে দিলো তাঁদের নিয়মিত স্মরণ রাষ্ট্রাচারের একটা অংশ হওয়া উচিত।’
জুলাই জাদুঘরের মেমোরিয়াল উদ্বোধনের আগে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন বলেও জানান ফারুকী। তাঁর ভাষায়, ‘অ্যাকচুয়ালি এবার উদ্বোধনের আগে আমি এই কথাটা একবার বলেছিলাম। কারণ মেমোরিয়ালটা বানানোর সময় এটাই ছিলো পরিকল্পনা। কিন্তু পরে দেখলাম মোটামুটি সরকারি কায়দায় অনুষ্ঠানটা করা হলো এবং মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবকের আইডিয়া বাদ দেয়া হলো। এমন কি প্রধানমন্ত্রীকে মিউজিয়াম ট্যুর করানো হলো মাঝখান থেকে। অনেকটা একটা সিনেমা মাঝখান থেকে দেখালে যেরকম হয় আর কি!’
শুধু ৫ আগস্ট নয়, বছরের অন্য সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের সুযোগ রাখার কথা বলেছেন তিনি।
ফারুকী বলেন, ‘শুধু পাঁচ আগস্ট না, অন্য যে কোনো সময়েও যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি চাইলে ওখানে ফুল দিতে পারে। আবার কেউ চাইলে সাভার স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে জুলাই শহীদদের জন্য নির্মিত এই মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলে আমরা নিজেরা নিজেদের স্মরণ করিয়ে দিতে পারবো সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথটা। যেমন নতুন মন্ত্রী হওয়ার পর অনেকে স্মৃতিসৌধ এবং বেগম খালেদা জিয়ার কবরে যান। মানে পাঁচ আগস্ট ছাড়াও ঐ রকম সিচুয়েশনে এটার ব্যবহার হতে পারে। তবে মূল প্রস্তাবটা পাঁচ আগস্টকে ঘিরেই।’