২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৪

পাহাড়ের রাজনীতি থেকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সাচিং প্রু জেরী

পাহাড়ের রাজনীতি থেকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সাচিং প্রু জেরী  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

পাহাড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ সাচিং প্রু জেরী এবার সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বান্দরবান থেকে নির্বাচিত বিএনপির এই নেতা ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

সাচিং প্রু জেরীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে পাহাড়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসও গভীরভাবে যুক্ত। বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বান্দরবানের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার রাজনৈতিক উত্থান মূলত স্থানীয় সরকার ও জেলা রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় রাজনীতিতেও তার পদচারণা পুরোনো। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সংসদে ফেরার সুযোগ পান ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

২০২৬ সালের নির্বাচন ছিল জেরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। বান্দরবান-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।

নির্বাচনী প্রচারে জেরীর বক্তব্যে পাহাড়ের স্থানীয় সমস্যাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। বান্দরবানের দীর্ঘদিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানকে তিনি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তাও তার রাজনৈতিক বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজেকে পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য ছিল এক হাত বাঙালিদের পাশে, অন্য হাত পাহাড়িদের পাশে; লক্ষ্য সম্প্রীতির বান্দরবান।

জেরীকে নতুন দায়িত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। এর আগে তার পাহাড়ি সতীর্থ রাজনীতিক দীপেন দেওয়ান এই দায়িত্বে ছিলেন। 

যদি তিনি এই মন্ত্রণালয় পেয়ে যান তাহলে এর তাৎপর্য শুধু একজন পাহাড়ি জেলার সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।  কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও জটিল রাজনৈতিক-প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোর একটি। ভূমি বিরোধ, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার, উন্নয়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সব মিলিয়ে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন বিএনপির নেতা দীপেন দেওয়ান। তিনি গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় আড়াই মাস মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য ছিল। এই প্রেক্ষাপটে বান্দরবানের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেরীকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে পাহাড়কেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।

জেরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তিনি পাহাড়ের স্থানীয় রাজনীতি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় সংসদ তিনটি স্তরেই কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।