রাষ্ট্রপতির বেতন কত?
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী হলেও রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ। এই পদে থাকা ব্যক্তির জন্য রয়েছে বেতন-ভাতা, সরকারি বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফর ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।
রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। বাসভবনের সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও সরকার দিয়ে থাকে। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও তিনি সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।
বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল
রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে এ অর্থ ব্যয় করা যায়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্যও বার্ষিক ভাতা রয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। তাঁরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য রয়েছে বিশেষ বিমাসুবিধা। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এ সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ছাড়াও সরকারি বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণের বিমাসহ দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু?
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়মুক্তিও রয়েছে। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।
মেয়াদ পাঁচ বছর
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।