১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৬

মহাসচিব হিসেবে বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক  © সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এ বক্তব্য দেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে দলের সংসদ সদস্যদের কাছে ভোটও চান তিনি।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের সব সংসদ সদস্যকে মির্জা ফখরুলকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিরোধ তৈরি না করার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি, কৃষক দলের সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা। জীবন দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং দলের দেওয়া সম্মান রক্ষার অঙ্গীকার করেন তিনি। বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে বর্তমান আবহের অভাব অনুভব করবেন বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চান।

বিএনপির আজকের অবস্থানে আসার পেছনে নেতাকর্মীদের অনেক ত্যাগ রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

‘কঠিন সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে দলের হাল ধরেছিলেন ফখরুল’
মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও দলের প্রতি তার অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দলের কঠিন সময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে মির্জা ফখরুল দলের হাল ধরেছিলেন। ওই সময়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে সব সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এমপিদের সতর্কবার্তা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হবে, ফলে এটি বিএনপির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।

নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনেক সংসদ সদস্যের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তা দ্রুত নিরসনের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দল যাকে সমর্থন দেবে, তার বাইরে গিয়ে কেউ যেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করেন। স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে প্রার্থী করে বিজয়ী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ফখরুলের আসন শূন্য হওয়ার বিষয়েও জানানো হয়
বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়মাবলি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন। চিফ হুইপ জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে আইন অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

বিএনপির সংসদীয় দলের এই বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।