১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৮

বৈধ দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি: ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন  © সংগৃহীত

দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলেও বাছাই পর্বে বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থীর কেউই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, ফলে আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দুই প্রার্থী বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ সময় বিকাল ৪টা পার হওয়ার পর তাদের দুজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেন নির্বাচন অফিসার। বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। 

এর পর থেকে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমেদও জমা দেন মনোনয়নপত্র। ১৬ আগস্ট বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।  

মঙ্গলবার বিকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হয়েছে। বৈধ প্রার্থী দুইজনের কেউই প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদ।

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচনি কর্মকর্তা সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরবেন। এরপর ভোট হবে। এখন ব্যালট পেপার ছাপিয়ে সংসদ কক্ষে ভোটের দিন সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যালটের রঙ সাদার উপরে কালো প্রিন্ট।

ইসি সচিব বলেন, আজকের পর আমরা ব্যালট পেপার তৈরি করব। ব্যালটের মুড়ি অংশ ও ব্যালট পেপার অংশ থাকবে। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার নেবেন। এরপর বিভক্তি সংখ্যা উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত জায়গায় পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। নির্ধারিত বাক্সে ফেলবেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে, এরপর গণনা। প্রাপ্ত বৈধ ভোট যিনি বেশি পাবেন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হচ্ছে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ত্রয়োদশ সংসদে এবার ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন।

এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণঅধিকার পরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী ও মকবুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ৮ অক্টোবর ভোটের নির্ধারিত দিন ছিল। তবে, ৩০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান মকবুল হোসেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুইজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়।