৩১ জুলাই ২০২৬, ২০:২৫

মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থানগুলো সংরক্ষণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন  © টিডিসি ফটো

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের যেসব স্থান রয়েছে, সেগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর  সৈয়দপুর ইউনিয়নের ফুলহার গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী  মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমর সংঘটিত হওয়ার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এখানে আসার পরে আমরা ওই স্থানটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমাদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ে যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তাঁদের কয়েকজনও ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে আমরা ঘটনাটির বিস্তারিত শুনেছি।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের যেসব স্থানে যুদ্ধ হয়েছে, সেসব স্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে কোনো স্থাপনা অথবা স্তম্ভ নির্মাণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এসব বিষয় লিপিবদ্ধ ও নথিভুক্ত করা হবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকে দেখে গেলাম, জানতে পেরেছি যে সৈয়দপুরে এরকম তিনটি সম্মুখ সমরের স্থান রয়েছে। এর মধ্যে একটি আজকে পরিদর্শন করে গেলাম। পরবর্তীতে আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে এটার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা এবং স্মৃতিটাকে সংরক্ষণ করার জন্য কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি করা যায় কি না, সেটার সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেই উদ্যোগটা আমরা নেব।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে।’ তিনি বলেন, ‘এরপর অনেক চড়াই-উতরাই, আন্দোলন হয়েছে এবং আপনারা জানেন যে ২০২৪ সালে একটা রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানও হয়েছে। সবকিছুই ছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শকে ঘিরে বলে আমি মনে করি।’

বিভিন্ন সময় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা দেখেছি যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে দাবিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশকে করায়ত্ত করে রেখেছিল। তার বিরুদ্ধে বারবার জনগণ ফুঁসে উঠেছে। কিন্তু এটার মূল শুরুটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে আমাদের মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করেছে এবং সেখানে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। অনেক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব ইতিহাসগুলো জানলাম।’

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নেব, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, এই ইতিহাসটা যাতে সংরক্ষিত থাকে, সমুন্নত থাকে। কারণ একটা জাতি কোনো দিনই তার ইতিহাস যদি জানতে না পারে বা সেটাকে ধারণ না করে, তাহলে কোনো দিনই তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। 

সৈয়দপুর এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একদমই তা নয়। কারণ আমি এখন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের প্রতিমন্ত্রী। আমি সারা বাংলাদেশেরই । তো আমাকে সারা বাংলাদেশেই ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে এর আগে আমি নোয়াখালীসহ আরও কয়েকটি জেলা পরিদর্শন করেছি এবং মুন্সিগঞ্জের অন্য যে আসন, সে আসনেও আমি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছি। এখানে আমরা গুরুত্ব বিশেষ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো পক্ষপাতিত্ব বা কোনো কিছুরই সুযোগ নেই।’

তবে সৈয়দপুরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমার আদিনিবাস। যদি বলি আরকি। যদিও আমার জন্ম ঢাকায়, আমার বাবার জন্ম ঢাকায়। কিন্তু আমাদের দাদার সূত্র থেকে আমরা এই মাটির সঙ্গে আমাদের একটা নাড়ির সম্পর্ক রয়েছে।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ইতিহাসটা যতটুকু আমি শুনেছি, এইখানে যে নদীটি রয়েছে, ধলেশ্বরী আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এই ইতিহাসগুলো তো আমার জন্য বিশেষভাবে, ব্যক্তিগত অনুভূতির জন্য অবশ্যই একটা আলাদা ইমোশন হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে আমি সারা বাংলাদেশে এই ধরনের মুক্তিযুদ্ধবিজড়িত, স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণে কাজ করে যাব।’