পে স্কেলের গেজেট পেছাতে পারে আরও তিন মাস
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরও সময় লাগতে পারে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠক হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
রবিবার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করে সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে-স্কেল–সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি এ পরামর্শ দেয়। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরের সময় অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে তাদের মতামত জানায়।
তবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আইএমএফের এ পরামর্শ পুরোপুরি গ্রহণ করতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে। সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়। তবে ঘোষণার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী অক্টোবরের আগে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটিকে আরও অন্তত দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হতে পারে। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টাও থাকবে।
সচিব কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ বিভাগ নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবে।
সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। রবিবারের বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আইএমএফের আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা, দেশে গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা যৌক্তিক হবে, সে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইএমএফ চাইছে নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখা হোক। এর ফলে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার সময় পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে।
পরে নভেম্বরে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করতে পারে। ওই সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়েও আরও আলোচনা হতে পারে।