চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি উদ্যোক্তা হোন, নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি উদ্যোক্তা হোন, নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন। এতে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ‘ওরিয়েন্টেশন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যারা মাঠে কাজ করেন, চাষি, কাটিয়ত বা টেকনোলজি ডেসিমেট করছেন—আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, মাটির গন্ধ লেগে থাকা এই আন্তরিক মানুষগুলোই আসলে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। আজকের দিনটায় কিন্তু আমাদের সামনে বড় একটা চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। ১৫ বছর ধরে আমাদের ইকোনমিটাকে একেবারে ভেঙে ধ্বংসপ্রাপ্ত করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে। আজকে চার কোটির মতো শিক্ষিত বেকার যুবক ঘুরে বেড়াচ্ছে, একটা সামান্য পদের জন্য চার-পাঁচ লাখ দরখাস্ত পড়ে। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা সোজা কথা নয়, এর জন্য প্রয়োজন গভীর ভিশন ও প্রজ্ঞা।’
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা লড়াই করেছি, আর সম্প্রতি আমাদের তরুণেরা নিজেদের রক্ত ও আন্দোলনের মাধ্যমে এক জ্বলন্ত পাথর ফ্যাসিস্টকে সরিয়ে এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বিদেশে নির্বাসন থেকে ফিরে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবও সেই কথাই বলেছেন, ‘I have a plan’ আর সেই প্ল্যানই হলো এই ভাঙা জিনিসগুলোকে ঠিকঠাক করে রাষ্ট্রকে আবার উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া।”
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা লাখো প্রার্থীর মধ্যে মেধা দিয়ে নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে প্রিভিলেজড গোষ্ঠী। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার হোস্টেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট তৈরি হয়েছে মাঠের ওই খেটে খাওয়া কৃষক আর গার্মেন্টসের মেয়েদের ঘামঝরা উপার্জনের টাকায়। তাই পড়াশোনা শেষ করে দেশের কাছে সেই দেনা আপনাদের শোধ করতে হবে। সবাই যে এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টে সরকারি চাকরি পাবেন, তা নয়।’
তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল আর দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা এগ্রিকালচার হাব হিসেবে ঘোষণা করেছি, যাতে আপনারা চাকরি না খুঁজে নিজেরাই এগ্রো-বেজড ইন্ডাস্ট্রি, পোল্ট্রি বা ফার্ম খুলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। আমি কিছুদিন আগে বগুড়াতে গিয়ে দেখেছি, কীভাবে গবেষকেরা চাকা ঘুরিয়ে ফ্লাই এনার্জি কিংবা সোলার দিয়ে বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করছেন। এই ধরনের নতুন টেকনোলজি ও সায়েন্টিফিক রিসার্চগুলো আমাদের মাঠে নিয়ে যেতে হবে।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট সমাধানসহ গবেষকদের জন্য রিসার্চ ফান্ড বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। রাজনীতি থাকবেই, তবে রাজনীতি যেন নেগেটিভ না হয়ে সব সময় দেশের মানুষের কল্যাণে পজিটিভ হয়—তবেই আমরা সবাই মিলে এই নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আলোর দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৬-এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম সুলতান, চার অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও নবীন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, একাডেমিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, ˆনতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশ ও কৃষির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বেলা আড়াইটায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ‘বাংলাদেশে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সম্ভাবনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সপ্তক’-এর উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।