২৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৬

হঠাৎ তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি নারী-পুরুষ ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন  © সংগৃহীত

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি এসি চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। প্রথমেই তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শন করে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান যাচাই করেন এবং খাবার চেখে দেখেন। পরে তিনি পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, ওষুধের স্টোর, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ওয়ার্ডের ওয়াশরুম, প্রশাসনিক কক্ষ এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও সার্বিক সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন মন্ত্রী। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বর ঘুরে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি হাসপাতালের এসি চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা তন্নির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। হাসপাতালের ওয়াশরুমসহ চলমান সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদারের নির্দেশও দেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক সংকট নিরসনে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শুরু করা হবে। প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালটিতে ৭ থেকে ৮ তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক প্যারালাইসিস সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, মাতৃদুগ্ধ কর্নার (ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার) এবং ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিজুল হক (লিটু), বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।