২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৩

শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগোল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পাসপোর্ট  © সংগৃহীত

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের বৈশ্বিক সূচকে তিন ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম, যা গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স তাদের ওয়েবসাইটে এ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের ভিসানীতি বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় কতটি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, সেটিই র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রধান ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে গত বছর বাংলাদেশের নাগরিকরা এ সুবিধা পেতেন ৩৭টি দেশে। অর্থাৎ ভিসামুক্ত গন্তব্য কমলেও অন্যান্য দেশের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিং তিন ধাপ উন্নত হয়েছে।

গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। এর আগে ২০২৪ সালে ছিল ৯৭তম এবং ২০২০ সালে ৯৮তম। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৩তম ও ১০১তম। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম।

এবারও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়া বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ তিন দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় যেতে পারেন।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার নাগরিকরা ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের ১১টি দেশ—বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৬টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পান।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড (১৮৫টি দেশ)। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য (১৮৪টি দেশ)। সপ্তম স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া (১৮৩টি দেশ)।

অষ্টম স্থানে থাকা ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়ার নাগরিকরা ১৮২টি দেশে, নবম স্থানে থাকা লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়ার নাগরিকরা ১৮১টি দেশে এবং দশম স্থানে থাকা আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ১৮০টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।

লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। এ দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৬৯টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পান।

যুদ্ধরত ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ৩১তম ও ৪২তম। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় যেতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের অবস্থান ১৮তম। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে; তাদের নাগরিকরা ৩৭টি দেশে এ সুবিধা পান। সৌদি আরবের অবস্থান ৫৪তম। চীন কসভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম স্থানে রয়েছে, যেখানে দেশটির নাগরিকরা ৮৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। হাইতি ও ভিয়েতনামের অবস্থান ৮৭তম।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম স্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। ভারতের অবস্থান ৮১তম (৫৫টি দেশ), ভুটানের ৮৮তম (৪৭টি দেশ), মিয়ানমারের ৯১তম (৪৩টি দেশ) এবং শ্রীলঙ্কার ৯৪তম (৩৯টি দেশ)।

বাংলাদেশের পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল, যার নাগরিকরা ৩৪টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম; দেশটির নাগরিকরা ২৯টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা পান।

সূচকের একেবারে শেষ, অর্থাৎ ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় যেতে পারেন। আফগানিস্তানের ঠিক ওপরে রয়েছে সিরিয়া (১০৩তম, ২৫টি দেশ) এবং ইরাক (১০২তম, ২৮টি দেশ)।