২০ জুলাই ২০২৬, ২০:০৫

যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক  © সংগৃহীত

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবেই হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় অডিটরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

বৈঠকে আরও কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সর্ম্পকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন। তারা জানান, বিগত সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাত একে বারে খাদের কিনারে রেখে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পান। তাদের যেন চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়, সরকারী হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাগবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়লাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যার উন্নিতকরণে উদ্যোগ নিয়েছে এই সরকার। ১০১ উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় গণপুর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ খুটিনাটি বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

এই বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রনালয়ের উর্ধবতন কর্মকর্তা ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।