২০ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৫

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ন্যুনতম সমঝোতা প্রয়োজন: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  © সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'জুলাই সনদ' অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ বিষয়ে সরকার, সরকারি দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করে যেসব বিষয় আইনি কাঠামোয় আনা দরকার, তা সংসদের মাধ্যমে এবং যেসব বিষয় সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করে জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় আইইউবিএটি (IUBAT) বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জুলাই স্মৃতি এবং তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম সমঝোতা (মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং) প্রয়োজন। দ্রুত এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি বিভিন্ন ছিদ্রপথে পুনরুত্থানের সুযোগ পেতে পারে। বিপুল অর্থ ও বিদেশি মদদে তারা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন রিজভী। 

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ অন্তত গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখতে শুরু করেছে। বর্তমানে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করলেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়ার যে ভয় ছিল, সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই আন্দোলনের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশে এখনো যেসব কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে ঐকমত্য না হলে গণতন্ত্র আবারও সংকটে পড়তে পারে। এতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘'পানি লাগবে, পানি?'—এই একটি বাক্যই যেন একটি মহাকাব্যের প্রতীক হয়ে আছে।” আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো ভোলা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। গণমাধ্যম ছিল নিয়ন্ত্রিত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং নির্বাচন কমিশন একের পর এক বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের আস্থা হারিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়। একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশগুলোতে যেভাবে বিরোধীদের দমন করা হয়, বাংলাদেশেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাব নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।