০৮ জুলাই ২০২৬, ২২:০৪

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান  © সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জালিয়াতি করে যারা বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের আনা এক জরুরি নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৭১ বিধিতে আনা ওই নোটিশে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত দেড় দশকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার করে প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের একটি অংশ বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি আরও জানান, কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৯০ হাজার ৫২৭ জনের সনদ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অন্তত ৮ হাজার জনের সনদে জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে গড়ে সাত থেকে আটজনের তথ্যে গুরুতর গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।

সংসদ সদস্যের এই তথ্যের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ৭৯ হাজার অমুক্তিযোদ্ধার সুবিধা নেওয়ার যে তথ্য এসেছে, সেটিও চূড়ান্ত বা নির্ভুল নয়; প্রকৃতপক্ষে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জালিয়াতির মাধ্যমে যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরসূরিরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও চাকরি গ্রহণ করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’