কিডনি-ক্যান্সার রোগীদের সুবিধা বাড়বে, স্বস্তি পাবেন মেডিকেল-ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও চিকিৎসা ব্যয় কমাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যান্সারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, হৃদ্রোগ ও কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ, ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক-কর ছাড় এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য হেলথ কার্ড চালুর কথাও জানিয়েছে সরকার।
বাজেটে ক্যান্সারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য এককালীন ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে একজন ভাতাভোগী ৫০ হাজার টাকা পেলেও এখন থেকে তিনি পাবেন ১ লাখ টাকা।
হৃদ্রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে বিদ্যমান ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি হার্টের রিংয়ের দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতেও একাধিক কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে ফিল্টারের দাম কমবে এবং একজন রোগীর ডায়ালাইসিস বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে।
এ ছাড়া কিডনি রোগীদের ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম করও তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ সেবা গ্রহণের খরচও কমবে।
শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ১৫ ধরনের পণ্যের অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের—এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি
মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণ ও ব্যাংকঋণ সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে ব্যয়বহুল এই শিক্ষায় আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীরা সহজে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হবে না।
এ ছাড়া দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ধাপে ধাপে হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য, ব্যবহৃত ওষুধ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।