৩০ জুন ২০২৬, ২০:২৬

মেট্রোরেলের কমলাপুর স্টেশন চালুর সময়সীমা জানালো কর্তৃপক্ষ

মেট্রোরেলের নির্মানাধীন কমলাপুর স্টেশন  © সংগৃহীত

রাজধানীতে মেট্রোরেলের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ এবং নতুন মেট্রোরেল স্টেশনটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এই স্টেশনটি চালু হলে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে মেট্রোরেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ঢাকার বাইরে থেকে আসা আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রীর পাশাপাশি গোপীবাগ, কমলাপুর, মান্ডা ও আশপাশের নতুন যাত্রী যুক্ত হওয়ায় মেট্রোরেলের দৈনিক যাত্রীসংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বর্তমানে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা-আগারগাঁও অংশ চালুর পর এমআরটি লাইন-৬ (MRT Line-6) প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের আওতায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এমআরটি লাইন-৬-এর প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, এই অংশের বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং ও মেকানিক্যালসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে কমলাপুর স্টেশন চালুর প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে এবং এর আগে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ট্র্যাকে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল বা ‘ট্রায়াল রান’ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল অংশে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ যাত্রী চলাচলের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। নতুন এই স্টেশনটি চালু হলে দেশের প্রধান রেলস্টেশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, কমলাপুর স্টেশন চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে মেট্রোরেলের সেবার সময়সীমা বাড়িয়ে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত করা সম্ভব হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ডিএমটিসিএলের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করতে স্টেশন ও ট্র্যাকের ভেতরে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী ও কর্মীরা।