৩০ জুন ২০২৬, ১৬:৩৭

বড় হচ্ছে ঢাকা, ছোট হচ্ছে দুই জেলা

সরকারি লোগো  © সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক সীমানা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৬টি মৌজা ঢাকা জেলার আওতায় এনে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমানা পুনর্গঠনের প্রস্তাব উঠছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ঢাকা জেলার পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়তন কমে যাবে।

বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে নিকারের ১২১তম সভা। ওই সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হিসেবে এ বিষয়টি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দুটি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১৬টি মৌজা ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর তিন জেলার প্রশাসনিক সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হলো, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পুনর্গঠন। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ, এই পাঁচটি সড়ক বিভাগ নিয়ে বগুড়ায় একটি স্বতন্ত্র সড়ক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে নওগাঁ সড়ক সার্কেল গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের মতে, উত্তরাঞ্চলের মহাসড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত, কার্যকর এবং বিকেন্দ্রীকৃতভাবে পরিচালনা করতে এ পুনর্গঠন প্রয়োজন।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।