২২ জুন ২০২৬, ১৬:৩০

চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  © সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি চীনের দালিয়ান শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুই দিন তিনি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।’

তিনি আরও জানান, দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন এবং সেখানেই তার রাষ্ট্রীয় সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের চার মাস পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের প্রথম চরণে গত রবিবার তিনি মালয়েশিয়া পৌঁছান।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল ‘বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সে’ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এ সময় কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।

চীন সফরের প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) আয়োজিত ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সম্মেলনে বিশ্বনেতা, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে অংশ নেবেন।

পরদিন ২৪ জুন সকালে ১৭তম বার্ষিক ‘সামার দাভোসের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘ডায়াওইউতাই গেস্ট হাউজে’ অবস্থান করবেন।

২৫ জুন সকালে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অব সিপিসি সেক্টর কমিটির মিনিস্টার, পানিসম্পদ মন্ত্রী, সিটকা চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের আলাদা আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ জুন বিকালেই চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিন ২৬ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাউ লি। এরপর ওই দিনই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী ২৬ জুন বিকালেই বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ওই দিন সন্ধ্যায়ই তাঁর ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।