প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী
‘আর নিজদের দাবি-দাওয়া নয়, এখন দেশের জন্য কী করা যায় এটা চিন্তা করুন’ প্রবাসীদের প্রতি এরকম আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হোটেল শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
‘তিনি বলেন, প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকে আমাদের কি দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি. আমাদের কি কর্তব্য আছে দেশের প্রতি? হোয়াট উই ক্যান ডু ফর কান্ট্রি। প্রিয় প্রবাসী ভাই-বোনেরা আপনাদের সকলের কাছে দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি কথা রাখব… আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কি করতে পারি দেশের জন্য? এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা… আপনাদের কাছে এই আশা রেখে, এই চাওয়া রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদ শাসনে দেশের অবস্থা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন দেশ থেকে কেউ একজন, একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে আজকে, দেশটাকে একদম ধবংস করে দিয়েছে। ঠিক আছে হয়েছে… কি করার… কিছু করার ছিল না আমরা চেষ্টা করেছি, বুকের রক্ত দিয়েছে মানুষ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। এখন আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কি করতে পারি … এটিতে আমরা থাকি। সকলে সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।”
রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাংগ্রি লা হোটেলে আসার পরে মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আসলেন প্রধানমন্ত্রী। সাথে ছিলেন তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান।
দেশ গঠনের নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘‘ আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। আপনারা যদি মনে করেন যে এইভাবে আমরা এগতে পারবো দেশকে নিয়ে, যারা বিশ্বাস করবেন কথাগুলো। দোয়া করবেন যাতে এইগুলার বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।”
প্রধানমন্ত্রী গল্পের মতো নিজের পরিকল্পনা বলেন একে একে। উপস্থিত প্রবাসী মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেন এবং মাঝে মাঝে করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সামনে একটি অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এখানে একটি বিরাট তবে আছে। তবে হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে এর জন্য কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে যে আমাদেরকে এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”
যে কথাটি দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম যে দেখুন আসার সময় যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি এটা তো ঠিক আছে নতুন রাস্তা হবে, বিল্ডিং হবে… এগুলা তো চোখে পড়ে…এটা তো কোন জিনিস না। যে উদাহরণটা আমি আপনাদের সামনে দিয়ে শুরু করেছিলাম যে কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে আমার কাছে এবং এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে।
‘আমার কথা হচ্ছে আমার দেশের ভাইরা যদি এখানে পারে তাহণে আমরা দেশে কেন পারব না? দেশে কেন করব না? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময়ে উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের সমস্যার কথা একসাথে বলতে চাইলে হৈইচৈ হলে প্রধানমন্ত্রী সকলতে শান্ত হতে বলেন।
আপনারা সবাই একসাথে কথা বলেন, কেউ কাউ কথা বলতে দিচ্ছে না। তার ফলে তার ফলে কোনটাই হচ্ছে না, কারোটা কেউ বুঝতে পারছে না, কারোটা কেউ শুনতে পাচ্ছে না এবং আমিও কিছু করতে পারছি না। এই জায়গাটা থেকে আমাদের আসতে হবে।
ওয়ান ইলেভেন প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেন এর পরে এবং তারপরেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সময় কতগুলো ঘটনা ঘটেছিল আমার সাথে, কতগুলা ঘটনা ঘটেছে আমার মায়ের সাথে, কতগুলো ঘটনা ঘটেছে আমার ভাইয়ের সাথে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আপনাদের হয়ত সেগুলো ভুলে গেছেন সেই সময় হয়ত অনেকেই দেখেছেন বাট এখন ভুলে গেছেন। আম্মা(বেগম খালেদা জিয়া) একবার খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় একটি হসপিটালে এ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হয়েছিল। তারা অ্যাম্বুলেন্সটি দেয় নাই সেদিন। ঠিক আছে।
‘এখন এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে… আই এম দি প্রাইম মিনিস্টার… আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়ত আমি প্রতিশোধ নিতে পারি? কিন্তু আমি যদি নেই তাতে বেনিফিটটা কি হবে বলতে পারেন? কারো কোন বেনিফিট হবে? কোনো বেনেফিট হবে না। এই বিষয়টা থেকে আমাদের বেরুতে হবে।’
নিজেদের দাবির থেকে বেরিয়ে আসতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সকলে মিলে হইচৈ করি, সকলে মিলে যদি নিজেরটা দাবি করি তাহলে কোনটিই হবে না, শুধু যদি নিজেরটা আমরা চিন্তা করি কোনটিই হবে না। দেশ আমাদের সবার। আমাদেরকে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে ধীরে ধীরে এগতে হবে।’
আপনি প্রবাসী, আমি তো দেশী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে উপস্থিত সবাই বলব, আপনি প্রবাসী, হ্যাঁ আপনি প্রবাসী। আমিও তো দেশী। আপনার যেরকম দেশের উপরে দাবি আছে, আমার উপরে দেশের উপরে দাবি আছে। রাইট। আসেন না কথাটাকে চেঞ্জ করি আমরা।
দাবি কথাটা কেন আমরা বারে বারে বলি? কেন আমরা ভিন্নভাবে চিন্তা করি না? আমরা দাবিটাকে ভুলে গিয়ে কেন আমরা বলি না প্রবাসী হিসেবে আপনার যেরকম দেশের প্রতি কর্তব্য আছে, দেশী হিসেবে আমরাও তো দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। আসুন আমাদের কি দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা চিন্তা করি আমাদের কি কর্তব্য আছে দেশের প্রতি? তিনি বলেন, আমরা কি নিবো দেশ থেকে এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রবাসীদের দাবি প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মানি বা না মানি এখানে তো আপনাকে এই দেশের আইনে চলতে হবে। এখানে আপনি আবদার করলে তো চলবে না আমাদেরকে তো এই দেশের আইনে চলতে হবে।
প্রথমে আমি যেই কথাটা বলেছি আগামীকাল উনাদের সাথে আমরা কথা বলব। অসুবিধা আছে। আমরা সেগুলা নিয়ে তাদের সাথে আলাপ করব, তাদেরকে বুঝান চেষ্টা করব। কিন্তু তারা তো আর তার দেশের আইনের বাইরে যাবে না, তারা তাদের দেশের আইনের বাইরে যাবে না। তারা তাদের দেশের আইনের ভিতরে থাকবে। সেই আইনের ভিতরে থেকে যতটুকু আমরা আমাদের প্রবাসীদের জন্য সুবিধা আদায় করতে পারি বা সুবিধা তৈরি করতে পারি আমরা সেটা অবশ্যই করব।
এই সময় প্রবাসীরা তুমুল করতালি দেয়। বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান মতবিনিময় সভায় ধন্যবাদ জানান।
দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে একান্ত বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। পরে নিজ নিজ দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম।