২০ জুন ২০২৬, ১৫:০২

এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে, এটা আইনের কোথাও নেই

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান  © টিডিসি সম্পাদিত

শিক্ষক নিয়োগে বর্তমান এনটিআরসিএ ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানিয়ে সংসদে আইনমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শিক্ষা-সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সেলিম ভূঁইয়া শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষকদের নিবন্ধনের জন্য এনটিআরসিএ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কয়েক হাজার জাল সনদধারী ব্যক্তি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এজন্য আগে জাল সনদধারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, যোগ্য ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে আমি। তবে সেই নিয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। বিদ্যমান আইনে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। তাই বিসিএসের আদলে একটি পৃথক কমিটি গঠন করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষকদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

আরও পড়ুন: বিদেশে পড়তে গিয়ে ফিরছেন না বেশির ভাগ শিক্ষার্থী, নেপথ্যে উচ্চ বেতন-নিরাপদ জীবন

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। অতীতের মতো শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ এবং পাঠ্যপুস্তক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির আখড়া হতে দেওয়া যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার না আনা হলে শিক্ষা খাত আগের অবস্থাতেই থেকে যাবে এবং জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার জন্য এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাই শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে যেন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিও উত্থাপন করেন সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ২০১০ সালের ১২ মে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে বর্তমান বিএনপির মহাসচিব, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, খায়রুল কবির খোকন, আমানউল্লাহ আমান এবং জয়নাল আবেদীন ফারুকসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাই সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।

এ সময় তিনি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে শিক্ষক হচ্ছেন সেই শিক্ষার মেরুদণ্ড। তাই শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে বা তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কখনোই শিক্ষকদের অভুক্ত দেখতে চান না। তাই শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার নিশ্চিত করে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।