১৮ জুন ২০২৬, ১০:১৬

কার্যকর ১ জুলাই হলেও পে স্কেলের বেতন পেতে সময় লাগতে পারে আরও তিন মাস

নবম জাতীয় পে-স্কেল  © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় অক্টোবরের আগে বাড়তি বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভও বাতিল করা হবে।

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাবনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পে-স্কেল বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণে আজ বসছে কমিটি, বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে দেওয়া বিশেষ সুবিধা আলাদাভাবে বহাল থাকবে না। বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এসব সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ফলে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির হার যতটা বড় দেখাচ্ছে, প্রকৃত বা নিট বেতন বৃদ্ধি তার চেয়ে কিছুটা কম হবে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাকরিজীবীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত এই অর্থের বড় একটি অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম জাতীয় পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।