পে স্কেল আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় ৪৪ হাজার কোটি টাকা, অর্থ সংস্থান যেভাবে
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে আংশিকভাবে এটি কার্যকর হচ্ছে। এ জন্য প্রথম দফায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগে থেকে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বাতিল হবে। সে অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পে-স্কেল কার্যকর হলে আর থাকছে না। এটি নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের প্রকৃত বেতন ৩৫ শতাংশ ও ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, এবারের বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। এটি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ থোক বরাদ্দ, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা আংশিক নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যয় করবে সরকার।
নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এগুলোর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল বা সমন্বয় হবে। ফলে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির হার নীট বেতনে কিছুটা কম দেখা যাবে। প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পে-স্কেল বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণে আজ বসছে কমিটি, বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা
সূত্র বলছে, পে স্কেলের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য অবসর সুবিধাও বাড়বে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ বরাদ্দ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি এবং ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বসছে কমিটি। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোও পর্যালোচনা করা হতে পারে।