১৭ জুন ২০২৬, ২১:৪৫

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রধান প্রধান রেল রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন (ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  © সংগৃহীত

রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে দেশের প্রধান প্রধান রেল রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন (ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের সামগ্রিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড’ এবং সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সড়ক-মহাসড়কের স্থায়ীত্ব রক্ষায় এবং অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বা ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক রিং রোড (বৃত্তাকার সড়ক) এবং রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ মোড়গুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও দুটি মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ করতে যমুনা নদীতে ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সংলগ্ন এলাকায় ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে দেশের জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি বা ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০৪৫ সাল পর্যন্ত মোট তিন ধাপে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের সব মিটারগেজ ও ব্রডগেজ রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে অনেক বেশি গতিশীল করবে।

রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে দেশের প্রধান রুটগুলোতে আন্তঃনগর (ইন্টারসিটি) এবং লোকাল রুটে কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত জবাবে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।