হজের ফি আরও কমাতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব করতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন জোরালো উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার জবাবে হজের ব্যয় নির্ধারণের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক হিসাব তুলে ধরে বলেন, ‘হজ যেহেতু একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, তাই এর মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই সৌদি আরব সরকার নির্ধারণ করে থাকে। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাবু ভাড়া, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়, মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনার আবাসন ব্যয় এবং ভিসা ও ইন্স্যুরেন্স ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাকি প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যয় বাংলাদেশ অংশে সম্পন্ন হয়, যার সিংহভাগই মূলত বিমান ভাড়া।’
তিনি জানান, বিগত ২০২৫ সালে দেশের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী সাশ্রয়ী উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালে এই ব্যয় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যার ফলে, চলতি বছরের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা, যা কুরবানির খরচসহ অন্তর্ভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে সৌদি আরব অংশের ব্যয় ছিল ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ অংশের ব্যয় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা। এই বাংলাদেশ অংশের ব্যয়ের মধ্যে শুধু বিমান ভাড়াই নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য একটি সহজলভ্য, মানবিক, সাশ্রয়ী ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবের নির্ধারিত ব্যয়ভারকে বিবেচনায় রেখে আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের মূল্য আরও কমানোর বা একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।