অবৈধ তিন নির্বাচনের কারিগর ছিলেন বেনজীর আহমেদ: চিফ প্রসিকিউটর
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি অবৈধ নির্বাচনের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। আজ সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ শুধু ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনারই মূল মাস্টারমাইন্ড (কুশীলব) ছিলেন না, তিনি মূলত বিগত ফ্যাসিবাদের সময় একপর্যায়ে সমান্তরালভাবে সরকার চালাতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও তিনি বেশি প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এই বিপুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে হেন কোনো অপকর্ম নেই, যা তিনি তাঁর কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এসে তাদেরই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বেনজীরের এসব কুকীর্তি ও বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ পায়, যা গণমাধ্যমের কল্যাণে পুরো জাতি দেখেছিল এবং এর প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।’
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চলমান তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। প্রতিটি অপরাধের সঙ্গেই তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে তিনি যখন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন, তখনকার একাধিক গুমের ঘটনার মামলার বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি দায়িত্ব থাকাকালীন অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের প্রত্যেকটি অবৈধ ও প্রহসনের নির্বাচন সফল করার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন এই বেনজীর আহমেদ। এ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করতে এবং স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখতে হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পেছনে তার সরাসরি দায় রয়েছে। অতএব, ট্রাইব্যুনালে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ আইনি নজর দেব।’