০৭ জুন ২০২৬, ১৮:২৩

বাধ্যতামূলক অফিস ৯ টায়, শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলসহ — সরকারের প্রশংসনীয় ১১ উদ্যোগ তুলে ধরল টিআইবি

বিএনপি ও টিআইবি'র লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় বর্তমান নির্বাচিত সরকার। সরকার গঠনের পার হয়েছে ১০০শ’র বেশি দিন। সরকারের এই স্বল্প সময়ে ঘটেছে নানা পরিবর্তন। সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত হতে হচ্ছে সকাল ৯টায়। কেউ পাচ্ছেন না শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা। ভিভিআইপি প্রটোকল বাতিলসহ নতুন সরকারের এমন ১১টি প্রশংসনীয় উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

রবিবার (৭ জুন) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেওয়ার বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে ভিভিআইপি প্রটোকল এবং বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা। 

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া, জ্বালানিসহ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বাসভবন ব্যবহার না করা। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের প্রটোকল দিতে ডিসি-এসপিদের উপস্থিতির চর্চা বাতিলসহ ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সুবিধা নিলে ব্যয় পরিশোধ করার নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ৩টি দেশের সাথে চুক্তি ও একটি দেশে পাচারকৃত সম্পদ জব্দের তথ্যও প্রশংসনীয় হিসেবে দেখা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সকাল ৯টায় কার্যালয়ে উপস্থিতির পাশাপাশি প্রথম চল্লিশ মিনিট অন্য কোনো কাজে কার্যালয়ের বাইরে না যাওয়া এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ও দপ্তর ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ। কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও খাতের সেবা কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আকস্মিক পরিদর্শন ও ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ। 

নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের ১৮০ দিনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা। নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে দৃশ্যমান সাফল্য প্রমাণে ব্যর্থ বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি ৬ মাস পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের ঘোষণা।

এছাড়া কৃষক কার্ড, দারিদ্র নিরসন ও নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় উপাসনালয় প্রধানদের ভাতা প্রদান, ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র গবেষক জুলকারনাইন, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, রাজিয়া সুলতানা ও শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।