০৭ জুন ২০২৬, ১৫:৩৫

বাংলাদেশিদের জন্য ফের খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার 

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১শে জুন দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে বিগত ২০২৪ সালের ৩১শে মে থেকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো উন্মুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের জনশক্তি রপ্তানি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আশা করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। 

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে ২১-২২শে জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬শে জুন চীন সফরে যাবেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের জট খোলার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর শেষ করে আসা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও শিগগিরই বাজারটি খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গেল বছরের ২৮শে অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে কর্মী পাঠাতে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছিল। বাংলাদেশের আপত্তির মুখে তিনটি শর্ত শিথিল করার পর বর্তমানে সরকার অনুমোদিত ২,৫০০ এজেন্সির মধ্য থেকে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। 

বিগত ২০২২ সালে শ্রমবাজার খোলার পর ১০০টি এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি নির্ধারিত খরচ ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একেকজন কর্মীকে প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছিল। দীর্ঘসূত্রতার এই সুযোগে নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো মালয়েশিয়ার বাজার দখল করে নিচ্ছে।

অবশ্য সিন্ডিকেট দমনে সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন মন্ত্রী থাকবো, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। যদি সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমি চলে যাবো।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১০ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে এই সংকটের একটি পরিষ্কার ও ইতিবাচক সমাধান দেখতে পাবেন দেশবাসী।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান জানান, ভালো বেতন ও অনুকূল কর্মপরিবেশের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। রাষ্ট্রের চেয়ে কোনো সিন্ডিকেট শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাজারটি সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। আগামী ২১শে জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেই এই বহুল কাঙ্ক্ষিত শ্রমবাজার খোলার চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে প্রবাসীদের পাশাপাশি আশাবাদী অভিবাসন ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।