‘পে স্কেল নিয়ে ভয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ সরকার তো এখনও কিছু বলেনি’
শুধু আলোচনা নয়, পে স্কেল এখন দোরগোড়ায়। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা, আর ৫ দিন পরেই বাজেট। এরপরই অন্যান্য বরাদ্দের সঙ্গে পে স্কেলের ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদিও কাঙ্ক্ষিত এই বেতন গ্রেড নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে চরমে। সরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, পে স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত যত তথ্য এসেছে, সব মিডিয়ার মাধ্যমে। বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এমনকি পে কমিশনে যুক্ত থাকা কর্তাব্যক্তিদের কেউই এ বিষয়ে ন্যূনতম তথ্য শেয়ার করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও অনেকটা একই অবস্থা চলেছিল। এ অবস্থায় স্বভাবতাই প্রশ্ন উঠেছে- পে স্কেল কি আসলেই ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে? হলে কীভাবে- প্রশ্ন থাকছে তা নিয়েও।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেকের সঙ্গে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, মনের ভিতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছু বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেয়া হলেও আসন্ন পে স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কিছুই দেওয়া হয়নি।
আবদুল মালেক বলেন, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে দেয় বা অর্থসচিব দেয় বা আগে যারা যেভাবে দিয়েছিলেন; সেইভাবে কিন্তু স্পষ্ট কোন ঘোষণা আমরা আজও পাইনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তাটা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে স্কেল হচ্ছে? যে ১১ বছর আমরা অপেক্ষা করেছিলাম এই পে স্কেলটার জন্য এবং আমাদের যে প্রধানমন্ত্রী তিনিও তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছেন যে আপনারা জানেন যে ক্ষমতায় আসলে তারা পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ৭ জুন এই সরকারের প্রথম বাজেট এবং আমরা জানি এবার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটা বিশাল বাজেট হতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের এই ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আসলে কতটুকু থাকবে বা কতটুকু থাকবে না এটা নিয়ে আমরা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি এবং আমরা আশা করি যে এই বাজেটেই আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে এবং কর্মচারীদের যে এতদিনের যে আশা প্রত্যাশা সেটা পূরণ হবে। আলাপকালে নানা শঙ্কার কথাও জানান এই কর্মচারী নেতা।
প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক দাবি
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (৩১ মে) আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিজের জন্য লজ্জাজনক।
তারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী,টিভি চ্যানেল জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তিন ধাপে তিন বছরে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কল্যাণ সমিতির মতামত তুলে ধরছেন তারা। অতীতের সব পে স্কেল প্রদানের পূর্বে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রচলন ছিল এবং দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবার সাথে তার সমন্বয় করা হতো। প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন হতো, দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা।
আরও পড়ুন: নবম পে স্কেলে আলোচনায় দুই প্রস্তাব—কাদের বেতন দ্বিগুণ হবে, বেশি সুবিধা পাবেন কারা?
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তা তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রের তথ্য, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তবে এদিনই পে স্কেলের বরাদ্দ হচ্ছে না। জানা গেছে, আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এদিন বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহবানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। এরপর আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নবম পে স্কেলটি এককালীন না করে মোট তিন ধাপে (৩ পর্যায়) বাস্তবায়নের কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের (বেসিক) অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন বৃদ্ধি এবং চূড়ান্ত বা তৃতীয় বছরে সব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হবে।