২৫ মে ২০২৬, ১০:৩২

বাজেটের আগেই পে স্কেলের ঘোষণা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি কর্মচারী নেতার

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতর আহবায়ক আবদুল মালেক  © টিডিসি সম্পাদিত

আসন্ন বাজেটের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পে স্কেলের ঘোষণা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতর আহবায়ক আবদুল মালেক। সোমবার (২৫ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা খোলা চিঠিতে এ কথা বলেছেন তিনি। এতে স্বস্তি নিয়ে সরকারি কর্মচারিরা ঈদ উদযাপন পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

খোলা চিঠিতে আব্দুল মালকে বলেছেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার লক্ষ‍্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয়  বরাদ্দ রেখে নবম পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে নানা যুক্তি সহ উপস্থাপন করেছেন- যেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে স্কেল পাবার কথা অথচ একটি ও প্রাপ্ত হয়নি।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য প্রতিবছর ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেলেও কর্মচারীদের বেতনের কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। দুই-তিন বছর আগেই অসংখ্য কর্মচারী বেতনের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে, যার কারণে পরবর্তী ধাপ না থাকায় তাদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ও বন্ধ। ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালের এই ঊর্ধ্বমুখী যুগে কি চলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। 

তার ভাষ্য, প্রতিটি  কর্মচারী ঋণের দায় জর্জরিত। প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে কিংবা ব্যাংক থেকে একাধিক লোন গৃহীত হওয়ায় কিস্তি কর্তনের পর যে বেতন হাতে পায়, তাতে ১০ থেকে ১৫ দিন ও চলে না। এ অবস্থায় তাদের সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। 

‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন‍্য আপনি অবশ্যই চিন্তা করছেন, তাই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আপনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কিন্তু আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১১ বছরে ২২টি ঈদ পার করেছি আমরা কেবলই পুরোনো কাপড়-চোপড় দিয়ে। ঈদ উৎসব কি জিনিস, অধিকাংশ কর্মচারীরাই তা জানেনা। কুরবানীতে অংশ নেয়াতো দূরের কথা’, যোগ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদানের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়

আবদুল মালেক বলেন, ‘একজন কর্মচারী ৮ থেকে ১০-১২ হাজার টাকা বোনাস পায়, যা দিয়ে এই যুগে কোরবানির গরুর অংশীদার থাকার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। যার দরুন আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী এমনকি স্ত্রী সন্তানদের কাছে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। এটা প্রজাতন্ত্রের সেবক হয়ে যেমন আমাদের লজ্জা, তেমনি সরকার প্রধান হিসাবে আপনারও দায় কম নয়। আসন্ন ঈদুল আজহায় আমাদের অনেকেই মহান আল্লাহ্কে রাজি খুশি করতে কোরবানীতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।’ 

তিনি বলেন, কর্মচারীরা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত, তাই নিজ নিজ এলাকার লোকজন ভরসা করে আমাদের কাছে আসেন। আমরা আশা রাখব, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে আমাদের সম্মান বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব। আসন্ন বাজেটে ৯ম পে-স্কেল শতভাগ মূলবেতন বাস্তবায়নের দাবি ২২ লাখ পরিবারের  এবং ভাতা সমুহ রাষ্ট্রীয় আর্থিক বিবেচনায় দুই ভাগেও বিভক্ত করে দিতে পারেন, তাতেও আমাদের আপত্তি থাকবে না।’

আবদুল মালেক আরও বলেন, ‘বাস্তবায়ন হতে সময় বেশি নিলে দ্রব্যমূল্য বেশি বৃদ্ধি পাবে। আর বাস্তবায়ন দ্রুত হলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কম পাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আমরা এও প্রত্যাশা করছি আসন্ন বাজেটের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পে স্কেলের ঘোষণা আসবে পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে, এতে কর্মচারী অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে আসবে।’